তোমাদের কিছু খাতা দেখছিলাম। বিষয় ছিল নাগরিক জীবনে বিজ্ঞাপনের প্রভাব। লেখাতে বেশিরভাগই একটা সীমার বাইরে যেতে পারছো না। চিন্তাভাবনা শুধু শহরের হোর্ডিং এই আটকে থাকছে। তাই ভাবলাম ভোর ভোর কলম চালাই। একবারে কোনো এডিট না করে যে লেখাটা লিখলাম সেটাই শেয়ার করছি। প্রবন্ধ বা প্রতিবেদন যেভাবেই আসুক চিন্তা এমন রাখলে অনেক সুবিধা পাবে। হয়তো লেখার দৈর্ঘ্য একটু বেশি। সেটা জেনেশুনেই করা যাতে যেভাবেই প্রশ্ন হোক সবদিক কভার করা যায়। আর শেষের মজাটা নিতে ভুলো না। 😊
বিজ্ঞাপনের স্বার্থে আমরা নাকি আমাদের স্বার্থে বিজ্ঞাপন? রাজপথ থেকে কানাগুলি, খবরের কাগজ থেকে মোবাইল ফোন, রেডিও থেকে ওটিটি বিজ্ঞাপনের বাড়বাড়ন্ত দেখে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একবিংশ শতকের একসিকিভাগ পেরিয়ে আসবার পরে তথাকথিত ‘কনসিউমার কালচারের’ করাল গ্রাসে গোটা মানবজাতির নিজস্বতা যখন বিপন্ন, পৃথিবীব্যাপী বিজ্ঞাপনের দাম্ভিক আস্ফালন যেন এই অস্তিত্বসংকটেরই জানান দেয়।
বিজ্ঞাপন তো অবশ্যই প্রয়োজন। গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে পণ্যের পসরা থাকবে আর নিজের রুচি,সামর্থ্য, তাগিদ অনুযায়ী গ্রাহক খরচ করবেন। এটাই তো স্বাভাবিক। এটাই তো অর্থনীতি সচল রাখবে। এটাই তো ‘মনোপলি’ বা একচেটিয়া কারবার বন্ধ করে বাজারে ভারসাম্য আনবে। এটাই তো কাম্য। তাছাড়াও বিজ্ঞাপন সরকারি পরিষেবা জনসমক্ষে আনা বা নাগরিক সচেতনতার এক বড় মাধ্যম। বিজ্ঞাপনের ওই কয়েক সেকেন্ড কত প্রতিভার সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচিত করেছে দুনিয়াকে। বিজ্ঞাপন যে কত সুন্দরভাবে দেশের আয়না হতে পারে ‘আমূল’ তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।
কিন্তু সেলিব্রিটির মুখ ব্যবহার করে যখন গ্রাহকের প্রয়োজন আর অপ্রয়োজনের ফারাক ঘুচিয়ে দেওয়া হয় প্রশ্ন ওঠে সেখানেই। ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপন যখন গ্রাহকের নিজস্ব অস্তিত্বকে, তাঁর স্বাভাবিকতাকে আড়াল করে এক নতুন সত্ত্বার প্রলোভন দেখায় আপত্তি সেখানেই। কুরুচিপূর্ণ ইশারাভরা বিজ্ঞাপন যখন খবরের কাগজের পাতা ভরায় আর এক সরল কিশোরের মননে অহেতুক হিন্দোল জাগায়, আপত্তি তো সেখানেই। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেশের তথাকথিত সুপারস্টাররা যখন নিষিদ্ধ পণ্যের বা জুয়ার প্রচার করেন সরকারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আর সামান্য আয়ের চক্করে সরকার বাহাদুর ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকেন, প্রশ্ন ওঠে সেখানেই। বিজ্ঞাপন তো মানুষের স্বার্থে তৈরি হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু যুগের হাওয়ায় মানুষের চাহিদা, রুচি, ভালোলাগা, ভালোবাসা সব যেন বিজ্ঞাপনের স্বার্থেই বদলাতে থাকে। তাই শহরের রাস্তায় হাজারো গর্ত থাকলেও হোর্ডিং ঝলমল করবে তারকার মুখের জৌলুসে। তাই ভালোবাসা মানে আর্চিস গ্যালারি। লর্ডসে সেঞ্চুরি তো মানুষের মনে থাকবে দিনকয়েক। সেঞ্চুরির পরে তোলা ব্যাটটায় যে সংস্থার স্টিকার তার পোয়াবারো চলবে আদিঅনন্তকাল।
গ্রাহক সচেতনতা বিজ্ঞাপন ও তার প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু সেই ঐক্য কি আছে দেশ বা দুনিয়াজুড়ে? চাকচিক্যকে তুড়ি মেরে জনতা কি বাঁচতে পারে? বা পারে বাছতে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল? শুধুই আইন রাখলেই তো হবে না তা বলবৎ করতেও সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। শুধু করলাভের অছিলা দিয়ে নয়, ভবিষ্যৎ ভেবে সরকারকে নিতে হবে কড়া পদক্ষেপ। আইনের চোখে তো সবাই সমান। তাহলে গুটকা বেচা সেলিব্রিটি বা জুয়ার অ্যাপ বেচা মহান ক্রিকেটার নয় কেন? ভাবতে হবে সকলকেই। নইলে যে বড্ড পিছিয়ে পড়তে হবে I
এত গেল প্রতিবেদন বা প্রবন্ধ। শীর্ষক তোমরাই দিয়ে নিও। আর বিজ্ঞাপনের একটা সুপ্রভাব বলি, এরকম লেখা আমার কাছে হাতে ধরে শিখতে ঝটপট একলব্য ব্যাচে চলে এসো। নিয়মনীতি ওখানে একটু কড়া। সেটা জানতে নিচের লিঙ্কে দেওয়া লেখা পড়ে নাও I আর তাছাড়া ক্লার্কশিপ মেইনের ও ব্যাচ শুরু হয়ে গেছে। জানতে হোয়াটস্যাপ করে নাও Adhyayan Academy র অফিসিয়াল নম্বর 6295350330 তে।

