বাংলা ভ্রমণ সাহিত্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখো।

Ans-

 বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যের অমলিন গরিমা

ভ্রমণ ও সাহিত্যপ্রেম – বাঙালির চিরন্তন দুই সত্ত্বা। ভ্রমণপিপাসু, সাহিত্যপ্রেমী বাঙালির সাহিত্যচর্চায় ভ্রমণের তাই অবাধ বিচরণ। বাংলা সাহিত্যে ভ্রমণের প্রভাব বা বাঙালির ভ্রমণে সাহিত্যের ভূমিকা কোনটা এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠতেই পারে। সেই সুদূর অতীত থেকে হালফিলের অবক্ষয়গামী বাংলা সাহিত্য – ভ্রমণকেন্দ্রিক লেখার চাহিদা পাঠকমহলে চিরকালীন।


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম গদ্যাকারে প্রকাশিত বই ‘ইউরোপ প্রবাসীর পত্র ‘ তাঁর প্রবাসভ্রমণের দলিল যা কূপমন্ডুক বাঙালিকে বিলাতের জীবনযাত্রার সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোদিন আফ্রিকা যান নি বটে কিন্তু তাঁর ‘চাঁদের পাহাড় ‘ আজও আট থেকে আশি সকলকে মুগ্ধ করে আফ্রিকার নিখুঁত বর্ণনায়। ‘বিগলিত করুণা জাহ্নবী যমুনা’ থেকে ‘ব্রহ্মলোকে’ শঙ্কু মহারাজের লেখা বহু ভ্রমণপ্রেমী বাঙালিকে ঘরছাড়া করেছে, নিয়ে গেছে প্রকৃতির কাছে, হিমালয়ের পাশে। কালকূটের ‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে ‘ যেন বাঙালির ভ্রমণতৃষ্ণা আর ধর্মপ্রাণের এক অমর যোগ।


সেই অর্থে সত্যজিৎ রায় ভ্রমণসাহিত্য লেখেন নি বটে কিন্তু তাঁর প্রায় সব গোয়েন্দাগল্পের পটভূমি তো আম বাঙালির পূজোর ঘোরার হটস্পট। ‘হত্যাপুরী ‘ থেকে ‘বাদশাহী আংটি ‘, ‘দার্জিলিং জমজমাট থেকে ‘ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর ‘, ‘গ্যাংটকে গন্ডগোল’ থেকে ‘যত কান্ড কাঠমান্ডুতে ‘ ফেলুদা, তোপসে, জটায়ুর চোখে বাঙালি দেখেছে ভারত বা তার বাইরের দুনিয়াকে।
হালফিলের বাংলা ভ্রমণসাহিত্য হয়তো কিছুটা কৌলিন্য হারিয়েছে। কিন্তু যে মানের লেখা আমাদের নিজস্ব সাহিত্যভাণ্ডারে আছে তাই বা কম কি? সঞ্জীব চাটুজ্জের ‘পালামৌ’ হোক বা সৈয়দ মুজতবা আলির ‘দেশে বিদেশে ‘ কিংবা প্রবোধ কুমার সান্যালের ‘মহাপ্রস্থানের পথে ‘ হোক বাংলা ভ্রমণ সাহিত্য বাংলা ও বাঙালির চিরন্তন সম্পদ। তাই যতদিন সাহিত্য থাকবে, যতদিন বাঙালি থাকবে, বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যের ও গরিমা থাকবে অমলিন I

আমার কাছে এরকমই বাংলা শিখতে হলে বা ইংরেজি জানতে হলে যুক্ত হতে পারো জনপ্রিয় কোর্স Eklavya Descriptive Bangla-English Batch এ। বিশদে জানতে নিচের লিঙ্কে যাও

News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *