আমি সবসময় বলে এসেছি পড়ানো আমার নেহাতই শখের জায়গা । এখানে কারো কাছেই আমাকে জবাবদিহি করতে হয় না । কারো কাছে প্রমাণ করার ব্যাপার নেই । হাত খুলে ব্যাটিং করতে পারি । কিন্তু যেটুকু সময় আমি পড়িয়েছি মনে হচ্ছিলো বড্ড স্টিরিওটাইপড হয়েছে যাচ্ছিলাম। কেমন না বরং কি পড়াচ্ছি সেটা বেশি জরুরি হয়ে যাচ্ছিলো । সত্যি বলতে কি চারপাশের পরিস্থিতি, হতাশাভরা ছেলেমেয়েদের মুখ দেখে সেই জোশটাও পাচ্ছিলাম না । ভুল করছিলাম, জানি।

এরপর হঠাৎ বাবার মৃত্যু । হঠাৎ করে জীবন উথালপাতাল হয়েছে গেল । জীবনের ছোট ছোট যেসব পরিকল্পনা থাকে সেগুলো একবারে ভেঙে খানখান | প্রায় মাসখানেক গুমরে পড়ে থেকে জীবনের ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে মনে হল ফিরে আসার এটাই সেরা সময় । নিজের পরিস্থিতি যখন ঝাপসা তখন মনে হচ্ছিলো আমার এরকম হলে ওইসব হতাশাভরা মুখগুলোর কি হবে । আর সেইসময়ই Miscellaneous মেইন ব্যাচে পড়াতে পড়াতে একলব্য ব্যাচের কথা ভাবা। সফল হবে না ব্যর্থ হবে কিস্সু জানতাম না ।

শুধু জানতাম আমার জীবনশক্তি ফিরে আসার হাতিয়ার হবে একলব্য | বাবার প্রতি নীরব শ্রদ্ধা হবে একলব্য | ডেসক্রিপটিভ ইংরেজি আর বাংলা পড়াতে গিয়ে সব কপিবুক স্টাইলকে স্ট্রেইট ড্রাইভে সীমানার বাইরে পাঠানোর নাম হবে একলব্য | আমার নন-কনফর্মিজমের আয়না হবে একলব্য |

যেহেতু কোনো প্রথার চাপ ছিল না, নিজের সেরাটা নিংড়ে দেওয়ার অনেক সোজা হয়ে গেল | একটু আধটু লিখতে তো জানতাম কিন্তু সেই জ্ঞান দিয়ে যখন একদল ছেলেমেয়েকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখানো শুরু করলাম নিজেকে আরো উন্নীত করার খিদেও বাড়লো । কথা দিয়েছিলাম ছেলেমেয়েদের সাহিত্যের প্রেমে পড়াবো । দেখলাম নিজের ও সাহিত্যপ্রেম কোথা থেকে আবার ফিরে এলো।
সবে দুদিন একলব্যে ক্লাস নিয়েছি | আমার পরিবর্তন দেখে হঠাৎ করে গিন্নির আবদার এই অরিজিনালিটি তুমি WBCS নিয়ে চিন্তার ক্ষেত্রে প্লিজ নিয়ে এসো | আমার জবাব, ধুস ওখানে তো পরীক্ষাই হয় না | স্ত্রী র জবাব ছিল, আর যখন হুট্ করে হবে তখন? ওর আবদার ছিল, একলব্য তো সপ্তর্ষি নাগের নিজেকে ফিরে পাওয়ার হাতিয়ার | কিন্তু যে প্যাশন একলব্যতে আছে সেটা পুরো অধ্যয়নে সংক্রমণ খুব দরকার | অধ্যয়ন তৈরি করতে ও নিজের WBCS চাকরি ছেড়েছে, আমার নিজেকে ফিরে পাওয়ার প্যাশন তাহলে আমি দিতে পারবো না অধ্যয়নকে? আমায় বললো, তুমি শুধু চিন্তা করো নতুন কিছুর। ওটারই বড্ড অভাব আর চিন্তা বাস্তব করবো আমি আর আমার টিম | আঠারো বছরের আমলাগিরির অভিজ্ঞতা নয় বরং ভাবো আঠারো বছর আগের স্বপ্ন দেখা মানুষটার মন আর চোখ দিয়ে।
মনে আছে ঠিক তেরো সেপ্টেম্বর ছিল | প্রায় দিন এগারো আগের কথা | পরেরদিন ছুটি ছিল তাই সারারাত কাটালাম এক আকাশ নতুন আইডিয়া নিয়ে। ব্যাচ তো কত্ত এসেছে গত তিন বছরে অধ্যয়নে। অফলাইন অনলাইন সবখানেই। আমি দুটো বিষয় ও পড়িয়েছি। কিন্ত বহু জায়গায় উন্নতি করা যেতে পারে। একলব্য যেমন আগামীদিনে এইরাজ্যে কিভাবে ডেসক্রিপটিভ বাংলা ইংরেজি পড়ানো হবে তার টেম্পলেট সেট করছে তেমনই WBCS বা কম্পিটিটিভ পরীক্ষা কিভাবে পড়ানো হবে তার নতুন টেম্পলেট সেট করুক আসছে দিনের ব্যাচ। তাহলে শুরুতেই নামকরণ।

একলব্য ব্যাচেরই এক ছাত্র প্রস্তাব দিয়েছিলো ব্যাচের নাম বাঘা যতীনের নামে হোক। দারুণ লাগে প্রস্তাবখানা। এত দেশপ্রেমী, এত বিপ্লবীর মাঝে বাঙালি বোধহয় তার অন্যতম সেরা বীরকে ভুলতেই বসেছে। তাহলে ব্যাচের নাম হোক বীর বাঘা যতীন ব্যাচ। কোথায় যেন প্রতিদিন একবার করেও তাঁর নাম স্মরণ করবে অধ্যয়নের সঙ্গে যুক্ত এতজন মানুষ।

এরপর ভাবলাম, আর কি নতুন চিন্তা হতে পারে। শুরু থেকে মেইনকেন্দ্রিক পড়াশুনো ? প্রিলিমিনারী তাতে এমনিতেই হবে। চেকড।
এভাবে ভাবতে ভাবতে প্রায় ১০ খানা অভিনব চিন্তা এলো। চমক নয় চমৎকার চিন্তা। ঢক্কানিনাদ বা প্রচার না, উৎকর্ষতার চিন্তা। ফিরে আসার না, ফিরে অনানোর চিন্তা। প্রথম দিন থেকে ১১ মাস ধরে ছেলেমেয়েদের সেই পুরোনো গুরুকূল প্রথায় নিয়ে গিয়ে সংযমী সাধনায় ব্রত করার চিন্তা। হোক না অনলাইন মাধ্যম। কিন্তু তাও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে, অনুশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞানযোগী তৈরির চিন্তা। শুরু হোক অনলাইনে পরীক্ষামূলকভাবে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে অফলাইনে ও। স্ত্রীকে ব্লুপ্রিন্ট দিলাম পরের দিন। গোটাদিন চললো বিচার বিশ্লেষণ। অবশেষে আত্মপ্রকাশ হল বীর বাঘা যতীন WBCS Combined ব্যাচের।
ভর্তি শুরু হতেই ভালো সাড়া জানান দিলো চিন্তায় নতুনত্বই পারে বদল আনতে।
যদি তুমি তোমার স্বপ্নপূরণে ত্যাগ করতে চাও সব সাময়িক সুখ, যদি হারিয়ে যাওয়া নিজেকে আবার ফিরে পেতে চাও, যদি আমাদের ছত্রছায়ায় থেকে গড়তে চাও নিজেকে যুক্ত হতে পারো আমাদের স্বপ্নের বীর বাঘা যতীন ব্যাচে। নিচের লিঙ্ক এ গিয়ে ডিটেলস পড়ে নাও আর তারপর অধ্যয়নের অফিসিয়াল নম্বর 6295350330 তে হোয়াটস্যাপ করে জেনে নাও সব ফর্মালিটি আর যুক্ত হয়ে যাও জীবন বদলানো এই ব্যাচের সঙ্গে।

ভালো থেকো।
ভালো থেকো।
সপ্তর্ষি

News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *