সপ্তর্ষি নাগ
বাংলা লেখার মুন্সিয়ানার প্রথম কথাটাই হল সাবলীলতা। বলিষ্ঠ শব্দপ্রয়োগ একটা নেশা বটে কিন্তু কিছু শব্দের বলিষ্ঠতা একটা গোটা লেখাকে নষ্ট করে দিতে পারে যদি না সেই বলিষ্ঠতা পুরো লেখাকে একমাত্রায় বাঁধতে সক্ষম হয়। আমাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন আমাদের লেখা। অনেক লেখা আমরা প্রতিনিয়ত পড়ি যেখানে লেখকের চরিত্রের আঁচ লেখার থেকেই পাওয়া যায়। গুরুগম্ভীর শব্দপ্রয়োগ, বক্তব্যের বলিষ্ঠতা, শুরুর থেকে শেষ এক অটুট বাঁধনে লেখা নিয়ে যাওয়া।অর্থাৎ লেখকের চারিত্রিক দৃঢ়তা বা তাঁর চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা পরিস্ফুট হয় তাঁর লেখাতে। লেখা পড়েই যেন সেই লেখকের প্রতি সম্ভ্রম জাগে।
আবার কিছু আনাড়ি লেখার ধরণ দেখলেই লেখকের চারিত্রিক উদাসীনতা বা দুর্বলতার সন্ধান মেলে। দারুণ শুরু কিন্তু খেই হারিয়ে ফেলা সহজেই। জটিল শব্দের আনাগোনা আছে বটে কিন্ত লেখনীর প্রাঞ্জলতার অভাব জানান দেয় লেখকের চারিত্রিক গঠনের কিছু সমস্যার কথা। এক অপূর্ণতা যেন দৃশ্যমান। বলার ইচ্ছে অনেক কিছুই কিন্তু প্রকাশের অপারগতা লেখাকে নামিয়ে আনে অতি সাধারণ স্তরে। চরিত্রের অপূর্ণতা, জীবনের লক্ষ্যভেদে বিচলতা বা বিফলতা লেখার দর্পনে ধরা পড়ে আর জানান দেয় সেই লেখকের হতাশাভরা জীবনদর্শনকে।
আবার আরেক শ্রেণীর লেখক আছেন যাঁরা এই বলিষ্ঠতার ধার ধারেন না। তাঁদের লেখা তাঁদের চরিত্রের মতোই সাবলীল, সুন্দর,বাঙ্ময়। অনেক জটিল ভাব ও তাঁরা সহজ, সরল কথায় প্রকাশে সক্ষম। তাঁদের চরিত্রে যেমন জটিলতা নেই তেমনই তাঁদের লেখাতেও নেই আড়ষ্টতা। ঝরঝরে, নির্মেদ লেখা যেমন সুপাঠ্য তেমনই মনের ঈশান কোণে সেই লেখকের প্রতি জাগিয়ে তোলে ভালোবাসা মেশানো ভক্তি। লেখা নিয়ে কারুকার্য করার তাঁদের প্রয়োজনই পরে না। কারণ তাঁদের লেখার ধরণ এতটাই সাধারণ যে অসাধারণত্ব ও হার মানে। শব্দচয়নে কোনো ছুতমার্গ নেই, না আছে তার প্রয়োগের গোঁড়ামি। লেখা যেন এক অকৃত্রিম ফল্গুধারা – বাঁধাহীন বহমানতা, সীমাহীন শীতলতা আর অপার সৌন্দর্য সবকিছুর এক অনন্য মিশেল।
লেখার ক্ষেত্রে নিজস্বতা সবচেয়ে কাঙ্খিত বিষয়। নিজের মতো লেখা এরচেয়ে তৃপ্তি আর কিছুতেই নেই। কিন্তু লিখতে শেখার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধারাতে প্রভাবিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কে আমাকে প্রভাবিত করছেন সেটাও দেখবার বিষয় বটে। আমি তিনশ্রেণীর লেখনী বা লেখকের কথা বললাম। প্রথমশ্রেণীর অনুসরণ করাটা একটা বেশ রোমান্টিক চিন্তা বটে কিন্ত একবার পা হড়কালে দ্বিতীয় গোত্রে অধঃপতন অনিবার্য। বিদ্যাসাগর বা বঙ্কিমচন্দ্রকে বা তাঁদের লেখনী পূজো করা সহজ কিন্তু তাঁদের লেখনীতে প্রভাবিত হয়ে একটু তালগোল পাকালে আম, ছালা দুটোই যাওয়ার ভয় থাকে। দ্বিতীয় শ্রেণীর কথা আর না বলাই ভালো। অন্যের প্রভাবে স্বকীয়তা হারানো মানুষজন ওই শ্রেণীতে পড়তে বাধ্য। তাই লেখা শিখবার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হল তৃতীয় শ্রেণীর প্রভাব। স্বাভাবিকতা তো অননুকরণীয়তার আরেক নাম। তাই ওই শ্রেণীর লেখা অনুকরণ করা অসম্ভব কিন্তু অনুসরণ করা যেতেই পারে। ওই লেখাগুলো যেন বুক চাপড়ে জানান দেয়, নিজস্বতা হে নিজস্বতা – উত্তরণের এর চাইতে আর ভালো কোনো পথ নেই। লেখার সাবলীলতা, শব্দের অবাধ বিচরণ, ভাবের দৃপ্ত স্বকীয়তা এই লেখাকে উন্নীত করে অসাধারণত্বের স্তরে। প্রাঞ্জল,মৌলিক, সুপাঠ্য এই লেখনশৈলী তাই আমাদের হৃদয়ে পায় চিরকালের ঠিকানা।
একলব্য ব্যাচে আমাদের লক্ষ্য এইধরণের লেখা শেখা। একদম গোড়ার থেকে আমরা নিজস্বতাকে শ্রদ্ধা করে শিখবো নিজেদের লেখা এই স্তরে উন্নীত করতে। আজ এপর্যন্তই। পরের বাংলা ক্লাসে আমরা শিখবো বঙ্গানুবাদ কিভাবে করতে হয়।
আমার ক্লাসে আমি ওই প্রচলিত গতের বাইরে বেরোতে চেষ্টা করি। তোমরাও যদি নিয়ম ভাঙতে চাও যুক্ত হয়ে যাও অধ্যয়নে আমার ক্লাসরুমে। বাংলা-ইংরেজির প্রেমে পড়বে কথা দিলাম। তাহলে 6295350330 তে করে নাও একখানা হোয়াটস্যাপ আর যুক্ত হয়ে যাও আমার ডেসক্রিপটিভ ক্লাসে। PSC Miscellaneous, WBCS, ক্লার্কশিপ যেকোনো ডেসক্রিপটিভ পরীক্ষার সাহায্য পাবে।
দেখা হচ্ছে পরের পর্বে।। ভালো থেকো সক্কলে।
সপ্তর্ষি ![]()

